logo

যোগাযোগের ঠিকানাঃ

House-1, Road-2, Metro Housing Ltd, (Beside RAB-2 Headquarter), Mohammadpur, Dhaka-1207

নিউজ রুম

+8801711701332, +8801766004470

মার্কেটিং এন্ড সেলস

+8801877756675

logo

BDCN24 হল সংবাদ, মতামত এবং বিনোদনের জন্য একটি বাংলাদেশ ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এটি পাঠক এবং শ্রোতাদের রাখার জন্য একটি ২৪/৭/৩৬৫ এর প্ল্যাটফর্ম

যোগাযোগের ঠিকানাঃ

House-1, Road-2, Metro Housing Ltd, (Beside RAB-2 Headquarter), Mohammadpur, Dhaka-1207

নিউজ রুম

+8801711701332, +8801766004470

মার্কেটিং এন্ড সেলস

+8801877756675

হোম - জাতীয়- সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করে খুনের আসামিকে জামিন: নিম্ন আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করে খুনের আসামিকে জামিন: নিম্ন আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

ছবি- সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও একটি চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে জামিন দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে  অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কুখ্যাত ডাকাত সর্দার ও হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আলতু ডাকাতকে জামিন প্রদান করেন। এতে মামলার বাদী ও সাক্ষীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।


মামলার আইনি অবস্থান
আদালত সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর থানার মামলা নং–১৪ এবং জিআর মামলা নং–১৫৩/২৪–এ গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগ আসামিকে জামিন প্রদান করেন। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ক্রিমিনাল মিসলেনিয়াস পিটিশন নং–৫৮০০/২৫ দায়ের করলে ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত মামলাটির কার্যক্রম ফাইলিং পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দেন। ফাইলিং পর আসামি পক্ষ ১৫ জানুয়ারি ২৬ তারিখে মামলাটি চেম্বার জজ আদালতে শুনানি করলে চেম্বার জজ মামলাটি রুল নিষ্পত্তির জন্য আবারো হাইকোর্টে প্রেরণ করে।


পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মিসলেনিয়াস কেস নং–৮৩২০৭/২৫ এর আবেদনটি আসামিপক্ষ নন প্রসিকিউশন বা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু প্রত্যাহারের পূর্বেই রাষ্ট্রপক্ষ ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আপিল বিভাগে ক্রিমিনাল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং–৬৮/২০২৬ দায়ের করেন। ক্রিমিনাল মিসলেনিয়াস কেইস নং ৮৩২০৭ প্রত্যাহার হলেও ক্রিমিনাল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং–৬৮/২০২৬ এখনো বিচারাধীন রয়ে যায়।

আরও পড়ুন

ড. ইউনূসের মামলা: হাইকোর্টের রায় নিয়ে আপিল বিভাগের নতুন নির্দেশনা

ড. ইউনূসের মামলা: হাইকোর্টের রায় নিয়ে আপিল বিভাগের নতুন নির্দেশনা । ছবি- সংগৃহীত

নিম্ন আদালতের জামিন আদেশ নিয়ে প্রশ্ন
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে কোনো মামলা বিচারাধীন বা স্থগিতাদেশাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট মামলায় নিম্ন আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার থাকে না। কিন্তু সেই মৌলিক আইনগত নীতি উপেক্ষা করেই নিম্ন আদালত কিভাবে এমন একটি গুরুতর হত্যা মামলার আসামিকে জামিন দিল—তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।


তাদের মতে, সাধারণত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা—বিশেষ করে যেখানে আসামি একজন চিহ্নিত ডাকাত সর্দার এবং চার্জশিটে প্রমাণিত অপরাধী—সে ক্ষেত্রে নিম্ন আদালত থেকে এত দ্রুত জামিন দেওয়ার নজির প্রায় নেই। উপরন্তু, আপিল বিভাগ ইতোমধ্যে জামিন স্থগিত করেছিল—এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন আদালতের এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে অত্যন্ত রহস্যজনক।


কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ
এই ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়টি স্পষ্ট থাকলে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট বা আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দেশনা নিশ্চিত করা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—কারা কর্তৃপক্ষ তা না করে শুধুমাত্র নিম্ন আদালতের নির্দেশের ওপর নির্ভর করেই আসামিকে দ্রুত মুক্তি দিয়েছে।


এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা সুপার মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,


“আমরা আসামির জামিননামা পেয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করি। উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়টি নিম্ন আদালতকে জানানো হলে আদালত সব তথ্য যাচাই করে আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। নিম্ন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা তাকে মুক্তি দিয়েছি। এখানে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই।”


তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—কারা কর্তৃপক্ষ কেন সরাসরি আপিল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করল না? এত স্পর্শকাতর মামলায় শুধুমাত্র নিম্ন আদালতের মৌখিক নির্দেশের ওপর নির্ভর করে আসামিকে মুক্তি দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত—সেই প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে উঠছে। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে কি না—তা নিয়েও জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন

গাজা সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫ জনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

মামলার বিবরণ
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২৪ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে কুখ্যাত ডাকাত আলতু ডাকাতের নেতৃত্বে চাঁদার দাবিতে লক্ষ্মীপুরের মেঘারচরে মো. আলামিনের কন্যা শিশু লামিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ২৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।


দীর্ঘ তদন্ত শেষে লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশ ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, সুরতহাল রিপোর্ট, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পরেও এমন একটি স্পর্শকাতর শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে জামিন দেওয়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।


জানা গেছে, আলতু ডাকাতের বিরুদ্ধে এর আগেও দ্রুত বিচার আইন, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, অপহরণ, গুম-খুনসহ প্রায় ১০ থেকে ১৫টি গুরুতর মামলা রয়েছে।


বাদীপক্ষের প্রতিক্রিয়া
মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ,


“আলতু ডাকাত একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও খুনি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া মানে ন্যায়বিচারের প্রতি চরম অবহেলা। এর ফলে আমরা এবং সাক্ষীরা এখন প্রাণনাশের আশঙ্কায় আছি।”


তদন্তের দাবি
আইন ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করে নিম্ন আদালতের এমন সিদ্ধান্ত বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে। তারা পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


সচেতন মহলের দাবি—নিম্ন আদালত, কারা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে এই ঘটনায় কোনো অনিয়ম, গাফিলতি বা আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না—তা জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করা হোক।

আরও পড়ুন

বরগুনায় চলছে মেলার নামে অনুমোদন বিহীন লটারী বিক্রী!৩ জনকে আটক করে সতর্ক

বরগুনায় চলছে মেলার নামে অনুমোদন বিহীন লটারী বিক্রী!৩ জনকে আটক করে সতর্ক

আসামির জামিন বাতিলের দাবি
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আদালতের আদেশে আসামি আলতু ডাকাত ইতোমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে যাওয়ায় বিচারপ্রার্থী মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বাদীপক্ষ ও আইন বিশেষজ্ঞদের দাবি, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে দেওয়া এই বিতর্কিত জামিন অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। তাদের মতে, চার্জশিটভুক্ত একজন কুখ্যাত খুনি ও একাধিক মামলার আসামি জামিনে বাইরে থাকলে মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে এবং ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।


তারা মনে করেন, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে এই জামিন বাতিল করে আসামিকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো প্রয়োজন।


দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি
বাদীপক্ষ ও এলাকাবাসীর দাবি, মামলাটি যেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। তাদের বক্তব্য, দ্রুত বিচার শেষ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হলেই কেবল ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে পাবে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকবে।

মন্তব্য করুন ( 0 )

মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!

আরও খবর দেখুন

সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করে খুনের আসামিকে জামিন: নিম্ন আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

মোঃ দেলোয়ার হোসেন মৃধা, বিশেষ প্রতিনিধি

image

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও একটি চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে জামিন দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে

 অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কুখ্যাত ডাকাত সর্দার ও হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আলতু ডাকাতকে জামিন প্রদান করেন। এতে মামলার বাদী ও সাক্ষীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।


মামলার আইনি অবস্থান
আদালত সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর থানার মামলা নং–১৪ এবং জিআর মামলা নং–১৫৩/২৪–এ গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগ আসামিকে জামিন প্রদান করেন। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ক্রিমিনাল মিসলেনিয়াস পিটিশন নং–৫৮০০/২৫ দায়ের করলে ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত মামলাটির কার্যক্রম ফাইলিং পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দেন। ফাইলিং পর আসামি পক্ষ ১৫ জানুয়ারি ২৬ তারিখে