পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হুমায়ুন কবির বাদশা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একইসঙ্গে আগামী ধার্য তারিখে মহিপুর থানার ওসি ও মামলার বাদী পক্ষকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আইনজীবী হুমায়ুন কবির বাদশা জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হওয়ায় পুলিশ ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দাবি, গ্রামের একজন সহজ-সরল ও লেখাপড়া না জানা মানুষকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মহিপুর থানা পুলিশ দায় এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মহিপুর থানার শিববাড়িয়ার মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন।
ওই মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট নাম ও বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় একই গ্রামের জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে মহিপুর থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মামলার মূল আসামি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তির মায়ের নামও পরোয়ানায় যাচাই করা হয়নি, অথচ মায়ের নামের ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে অমিল রয়েছে।
গ্রেপ্তার জলিল হাওলাদারের পরিবারের দাবি, মামলার আসামি ও গ্রেপ্তার ব্যক্তি একই ব্যক্তি নন। তাদের নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম এক হলেও মায়ের নাম ভিন্ন। পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে এমন একটি মামলায় জলিলকে ২০ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মহিপুর থানার ওসি শামিম হাওলাদার জানান, আদালত থেকে পাঠানো গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এসআই শহীদুল আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। পরোয়ানায় আসামির নাম ও বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে পরোয়ানায় ছবি বা মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে এবং সোমবার আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। ভবিষ্যতে ওয়ারেন্ট তামিলে যাতে এমন ভুল না হয়, সেজন্য আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
লগইন
বাবার নামের মিল, নির্দোষ হয়েও ২০ দিন কারাগারে জলিল
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!