নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী সদর মডেল থানার আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের নেতা(রোকন) জহিরুল ইসলাম মানিককে আমন্ত্রণ জানিয়ে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামীলীগ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, আইনজীবী,সাংবাদিকসহ সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ। বুধবার(২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নরসিংদী সদর মডেল থানা প্রাঙ্গনে আয়োজিত সভায় এ ঘটনা ঘটে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভূইয়ার সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জি এম তালেব হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা মোহাম্মদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ৭১-এর জেলা সভাপতি আব্দুল মোতালিব পাঠান, নরসিংদীর পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাচ্চু, নরসিংদীর আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম, নরসিংদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির শাহ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অনিল চন্দ্র ঘোষ, নরসিংদীর পৌরসভার কাউন্সিলর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারবৃন্দ সহ অর্ধশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সুধীজন।
নেতৃবৃন্দ জামায়াত নেতার উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ৭১-এর জেলা সভাপতি আব্দুল মোতালিব পাঠান বলেন, একজন জামায়াত নেতা কীভাবে এই ধরনের একটি অনুষ্ঠানে আসতে পারে সেটা অবশ্যই খতিয়ে দেখার দরকার আছে। পরবর্তীতে এধরণের ঘটনা ঘটলে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠান বর্জন করবো। নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, মানিকের বিরুদ্ধে নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় কয়েকবার জেলও খেটেছেন । এব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জিএম তালেব হোসেন বলেন, জামায়াতের এই নেতার বাড়ি বোধ হয় থানার পাশে । এমনিতেই সভায় এসে বসেছে। তবে এটা হতে পারে না। মানিক বক্তব্য দেয়ার সময় আমি জানতে পারি যে, সে জামায়াতের রোকন। আমি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাই। তখন পুলিশ সুপার সাহেব বললেন তার আসার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এব্যাপারে অনুষ্ঠানের আয়োজক সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভুইয়া বলেন, কীভাবে আসছে সেটা আমি জানি না। তবে মসজিদে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল, সেখান থেকে আসতে পারে। নরসিংদীর পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন বাচ্চু এবং নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির শাহ সহ সুধী সমাজের সবাই ক্ষোভ প্রকাশ ও জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার জানান, আমি তো নতুন যোগদান করেছি, আমি কাউকে চিনি না আমি এই ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী শহরে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!