রমজানে ইতিকাফের গুরুত্ব, ফজিলত ও প্রয়োজনীয় মাসআলা
পবিত্র রমজান মাসে ইতিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও শবে কদরের ফজিলত লাভের সুযোগ তৈরি হয়। ইসলামি শরিয়তে পুরুষদের জন্য এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কিফায়াহ হিসেবে বিবেচিত।
ইতিকাফের অর্থ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে ইবাদতে মশগুল থাকা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর জীবনের প্রায় প্রতিটি রমজানেই ইতিকাফ পালন করেছেন।
হাদিসে ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে, রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করলে দুটি হজ ও দুটি উমরার সওয়াব পাওয়া যায়। (শুআবুল ঈমান, হাদিস: ৭৫০)।
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, ইতিকাফকারী ব্যক্তি গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখে এবং তার জন্য বিভিন্ন নেক আমলের সওয়াব অব্যাহতভাবে লিপিবদ্ধ হতে থাকে। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৮১)।
ইতিকাফের মাধ্যমে একজন মুসলমান বেশি সময় ইবাদত, তিলাওয়াত ও জিকিরে ব্যয় করতে পারেন। এর ফলে আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি শবে কদর পাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
১. পুরুষদের জন্য রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কিফায়াহ।
২. নারীরা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে ইতিকাফ করতে পারেন।
৩. ইতিকাফকারীকে মসজিদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করতে হবে। শরয়ি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।
৪. মসজিদের যেসব স্থান মূল মসজিদের অংশ নয়— যেমন অজুখানা, ইস্তিঞ্জাখানা বা আলাদা কক্ষ— সেগুলোতে গেলে ইতিকাফের বিধান প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
৫. মেহরাব মসজিদের অংশ হওয়ায় সেখানে যাওয়া বৈধ।
৬. সাধারণত ২০ রমজানের সূর্যাস্ত থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত ইতিকাফের সময় নির্ধারিত।
আলেমদের মতে, ইতিকাফে বসার আগে এর বিধান ও মাসআলা ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
লগইন
ইতিকাফের ফজিলত, উপকারিতা ও জরুরি মাসআলা | ছবি সংগ্রহীত
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!