পহেলা বৈশাখ উদযাপন: ইসলামের দৃষ্টিতে কী বলছেন আলেমরা
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে উদযাপিত নানা আচার-অনুষ্ঠান ইসলামের দৃষ্টিতে কতটুকু গ্রহণযোগ্য—এ নিয়ে মতামত দিয়েছেন আলেমরা। তাদের মতে, কিছু প্রচলিত রীতি ইসলামী আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয় বাংলা সনের প্রথম দিন হিসেবে। ইতিহাস অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। সে সময় নববর্ষের প্রধান আয়োজন ছিল ‘হালখাতা’, যা ছিল একটি অর্থনৈতিক প্রথা।
পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের উদ্যোগে নববর্ষ উদযাপনের আধুনিক ধারা চালু হয় এবং ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’সহ বিভিন্ন আয়োজন যুক্ত হয়।
আলেমদের মতে, বর্তমানে কিছু আচার ইসলামের তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রতিকৃতি প্রদর্শন এবং এগুলোর মাধ্যমে অমঙ্গল দূর হওয়ার বিশ্বাসকে তারা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
কিছু অনুষ্ঠানে সূর্যোদয়কে কেন্দ্র করে প্রতীকী বিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে—
“আমি তাকে ও তার কওমকে দেখতে পেলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করছে…”
(সূরা আন-নামল: ২৪)
আলেমদের মতে, এই আয়াত থেকে বোঝা যায়—আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর প্রতি এমন বিশ্বাস বা নির্ভরতা ইসলামে অনুমোদিত নয়।
এছাড়া নববর্ষকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কিছু মেলা ও র্যালিতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অপচয় এবং নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তারা মনে করেন, একজন মুসলিমের উচিত এমন সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা, যা ইসলামী আকিদা, শরীয়াহ ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
লগইন
ইসলামের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ পালন | ছবি সংগ্রহীত
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!