প্রসবজনিত ফিস্টুলা একটি স্পর্শকাতর নারী স্বাস্থ্য সমস্যা। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রসবজনিত ফিস্টুলার সংখ্যা কমলেও এখনো দেশ সম্পূর্ণভাবে ফিস্টুলামুক্ত হয়নি। বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল ও সকল মহিলাজনিত ফিস্টুলা রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।
জাতিসংঘ ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ রোগের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে চাঁদপুরে আজ ১৮ মে দুপুরে আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস পালিত হয়েছে।
এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়:
‘‘নারীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূলে টেকসই বিনিয়োগ জোরদার করি।’’
বিশ্বে এখন প্রায় ১০ লাখ নারী ফিস্টুলা রোগে ভুগছেন। তার মধ্যে বাংলাদেশে ভুগছেন প্রায় ২০ হাজার নারী। বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৫০ হাজার নতুন রোগী যোগ হচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার নতুন রোগী যুক্ত হন এই তালিকায়। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক সচেনতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে বাল্যবিবাহ রোধ ও কম বয়সে গর্ভধারণে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি নিরাপদ প্রসবের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) চাঁদপুর জেলায় ‘‘ফিস্টুলা নির্মূলকরণ কার্যক্রম-২০৩০’’ বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করছে। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রধানত ফিস্টুলা রোগী সনাক্তকরণ, রেফারের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং পুনর্বাসনের আওতাভুক্ত করতে সহায়তা করা হয়।
এ উপলক্ষে এক র্যালি সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। র্যালি শেষে কনফারেন্স কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ নুর আলম দীন সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সিভিল সার্জন বলেন, চাঁদপুর জেলাকে ফিস্টুলামুক্ত করার জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উক্ত কার্ক্রমকে ফলপ্রসূ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি আরো জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে, বাড়িতে প্রসব সেবাকে নিরুৎসাহিত করে হাসপাতালের প্রসবসেবাকে উৎসাহিত করতে হবে। মাঠকর্মীগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসবজনিত ফিস্টুলা সচেতনতা কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে।
সভায় আরো জানানো হয় যে, প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মুলের লক্ষ্যে চাঁদপুরে গত ১২ মে প্রসবজনিত ফিস্টুলা ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ও সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন এন্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এর কারিগরি সহযোগিতায় এই ক্যাম্পেইন শুরু হয়ে আগামী ২৫ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে।
ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং কমিউনিটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগীর তথ্য সংগ্রহ করছেন। এখন পর্যন্ত ০৪ জন সাসপেক্টেড রোগীর তালিকা করা হয়েছে। সাসপেক্টেড রোগীদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে ডায়াগনোসিস করা হবে। এছাড়া, উন্নত চিকিৎসার জন্য সকল রোগীদেরকে ঢাকাস্থ ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টারে রেফার করা হবে এবং সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। চিকিৎসা শেষে দরিদ্র রোগীদেরকে পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, ফিস্টুলা রোগী চেনার সহজ উপায়: প্রসবের রাস্তা দিয়ে সব সময় প্রস্রাব বা পায়খানা অথবা উভয়ই ঝরতে থাকবে। সমস্যা শুরু হবে বিলম্বিত প্রসবের পর অথবা তলপেট বা জরায়ুতে অপারেশনের পর।
লগইন
চাঁদপুরে আন্তজার্তিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!