আব্দুল কাদির, বিশেষ প্রতিনিধি:
দেহে নিঃশ্বাস থাকার নামই জীবন।যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে ততক্ষণেই জীবন্ত মানুষ।
তবে সকলেই সব বয়সে পরিশ্রমি থাকেনা বা থাকতে হয় না। কিন্তু ব্যতিক্রম হল মতলব মুন্সিরহাটের আব্দুল খালেক। ৭৫ বছর বয়সেও থেমে নেই আব্দুল খালেকের জীবন সংগ্রাম এটি পরিশ্রমের এক জীবন্ত উদাহরণ ও জীবন সংগ্রামের উজ্জল দৃষ্টান্ত সহ প্রেরণা।
মতলব দক্ষিণ মুন্সিরহাট এলাকার ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল খালেক—নামটি হয়তো খুব পরিচিত নয়, কিন্তু তাঁর জীবনসংগ্রামের গল্প শুনলেই যে কারও হৃদয় নরম হয়ে আসতে বাধ্য । বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও তিনি থেমে যাননি জীবন সংগ্রামের কাছে । ভোরের আলো ফুটতেই নিজের ক্ষেতে ফলানো পালং শাক, লাল শাক, মূলা, মরিচসহ নানা সবজি তুলে নিয়ে আসেন তিনি বিভিন্ন বাজারে। লক্ষ শুধু দুমুঠো হালাল রুটি।
কারও কাছে মাথা নত বা হাত পাতা কোনোটিই তার কাম্য নয়। নয় কারো করুণার পাত্র হওয়া । জীবনের এই প্রান্তে এসেও তিনি বিশ্বাস করেন—মানুষের আসল সম্মান নিজের কর্ম ও ঘর্মেই অর্জিত হয়। কাঁপা হাতে যখন তিনি সবজির ঝুড়ি সাজান, তখন সেখানে শুধু শাকসবজি নয়, জমে থাকে এক সংগ্রামী জীবনের নীরব গল্প।
স্থানীয়দের ভাষায়, এমন খেটে খাওয়া মানুষরাই সমাজের প্রকৃত নায়ক।এদের শ্রমের ফলেই আমরা আরাম আয়েসে ঘরে বসে খেয়ে থাকি। অত্যন্ত সরল ও সৎ এই মানুষটি প্রায়ই ক্রেতাদের অযথা দর-কষাকষির মুখে পড়েন। সামান্য ক’টাকা কমানোর জন্য যখন কেউ তর্ক করেন, তখন অনেকেই বুঝতে পারেন না—এই টাকাটুকুই তাঁর দিনের প্রধান ভরসা।
এক আলাপচারিতায় আব্দুল খালেক আবেগভরা কণ্ঠে বলেন,
“আমি রোজা রেখেছি। আল্লাহ যেন আমার রোজা কবুল করেন। আমার জন্য দোয়া করবেন—আমি যেন আরও পরিশ্রম করতে পারি।”
একজন প্রবীণ মানুষের মুখে এমন আন্তরিক ও বিনম্র কথা সত্যিই হৃদয় স্পর্শ করে।
বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় তিনি জীবনের নানা দুঃখ-কষ্টের কথাও তুলে ধরেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত কষ্টের অনেক অংশ এতটাই স্পর্শকাতর যে সেগুলো প্রকাশযোগ্য নয়। তাঁর চোখের ভাষাই বলে দেয়—জীবন তাঁকে সহজ পথ দেয়নি।
এদিকে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় “ফ্যামিলি কার্ড” বিতরণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত অনুযায়ী, আব্দুল খালেকের মতো পরিশ্রমী নিম্নআয়ের প্রবীণদের এই সহায়তার আওতায় আনা হলে তাদের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসতে পারে। এতে তাদের মুখে হাসি ফুটবে এবং তারা আরও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, একসময় এই দেশ দাঁড়িয়ে ছিল এমন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষের কাঁধে। আজও তারা নীরবে লড়ে যাচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের জন্য আব্দুল খালেক এক জীবন্ত বার্তা—কাজের কোনো বয়স নেই, আর সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই।
সচেতন নাগরিকদের প্রতি বিনীত আহ্বান—এমন শ্রমজীবী প্রবীণদের কাছ থেকে কেনাকাটার সময় অযথা দর-কষাকষি না করে তাদের প্রাপ্য মূল্য প্রদান করুন। আসুন, আমরা অন্তত একটি প্রশ্ন করি—“চাচা, আপনি কেমন আছেন?” হয়তো আমাদের এই সামান্য খোঁজখবরই তাঁর মতো মানুষের মুখে একটু শান্তির হাসি এনে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ছবিটি চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
লগইন
৭৫ বছর বয়সেও থেমে নেই আব্দুল খালেকের জীবন সংগ্রাম
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!