আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামে জয়–পরাজয়ের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারেন নারী ভোটাররা। কারণ জেলাটিতে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
নদ-নদী ও চরাঞ্চলবেষ্টিত উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রাম ভারতের তিনটি রাজ্যের সঙ্গে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সীমান্তে ঘেরা। ১৬টি নদ-নদী ও প্রায় ৩২০ কিলোমিটার চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই জেলায় রয়েছে ৯টি উপজেলা, ৭৩টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা। চারটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২৭ জন প্রার্থী।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৮ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ৫৪ হাজার ২৪২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৪ জন। শতাংশের হিসাবে নারী ভোটার ৫০ দশমিক ২২ ভাগ এবং পুরুষ ভোটার ৪৯ দশমিক ৪৮ ভাগ। চারটি আসনেই নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের বাসিন্দা জলিল মিয়া বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী না থাকায় নারীদের অধিকার ও স্বার্থ সংসদে তুলে ধরার সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নারী ভোটাররা এমন প্রার্থীই বেছে নিতে চান, যিনি নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও নারী বান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবেন।
দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত কুড়িগ্রামে নারীরাও অবহেলার শিকার। তাই এবারের নির্বাচনে জেলার পিছিয়ে থাকা নারীরা নারীবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন—এমন যোগ্য প্রার্থীকে বিবেচনা করেই ভোট দিতে চান বলে জানান তারা।
ভোটার আছমা বেগম বলেন, নারীদের অবদানেই জেলা দারিদ্র্যের তালিকায় নিচের দিক থেকে উঠে এসে ৫৬তম অবস্থানে এসেছে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য দেশ-বিদেশে পণ্য বাজারজাতের সুযোগ বাড়ানো এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচারের ঝুঁকি থেকে নারীদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আফাদের নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নারীবান্ধব নেতৃত্ব তৈরি করা। এতে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ও নারীদের পক্ষে কথা বলার সুযোগ বাড়বে।
এদিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, ভোটের দিন প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চলের ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন—এ জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নদী এলাকায় যোগাযোগের সুবিধায় ১৬টি নৌকা, ৭টি স্পিডবোট ও ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে বিনামূল্যে পারাপারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
লগইন
ছবি- সংগৃহীত
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!